পরিচিত কাজ দিয়ে শুরু
বড় সন্তান আপনার সঙ্গে কী করতে ভালোবাসে দেখুন। গল্প বাছা, নাশতা বানানোর সময় কথা বলা বা আঁকা ছবি দেখানো হতে পারে। সম্ভব হলে এমন কিছু দৈনন্দিন যোগাযোগ রাখুন। নতুন কেনাকাটা দিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান বানাতে হবে না। পরিচিত কাজ বলতে পারে, সম্পর্কের এই অংশ এখনো তোমার সঙ্গে আছে।
কিছুই বদলাবে না এমন প্রতিশ্রুতি দেবেন না। নতুন শিশুর ঘরে আওয়াজ, জিনিসের অবস্থান বা বড়দের সময়ের ব্যবহার বদলাতে পারে। শিশু যা দেখতে পাচ্ছে সেই বাস্তব পরিবর্তন সহজ ভাষায় বলুন। কোনো কাজ কবে হবে না জানলে জানেন না বলুন। রাখতে পারবেন না এমন সময় বলার চেয়ে সত্যি উত্তর পরিষ্কার।
অংশ নেওয়া সুযোগ, চাকরি নয়
বড় সন্তান কার্ড বাছতে, পাশে গান করতে বা বড়দের পড়ার জন্য বই আনতে চাইতে পারে। ছোট পছন্দের সুযোগ দিন এবং না বলাও গ্রহণ করুন। ভালোবাসা দেখাতে তাকে সংসারের সহকারী হতে হবে না। ছোট শিশুকে দেখাশোনা ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসহ দায়িত্ব বড়দের কাছেই থাকুক।
“কোন গল্প পড়ব তুমি বাছবে?” বলা যায়। “তুমি বড়, তাই সাহায্য করতেই হবে” বললে বয়সকে বাধ্যবাধকতা বানানো হয়। অংশ নিলে তার নির্দিষ্ট কাজের জন্য ধন্যবাদ দিন। শুধু বড়দের কাজে লাগে বলে প্রশংসা না করে তার পছন্দ ও আগ্রহও গুরুত্ব দিন। সে অংশ নিতে না চাইলে সম্পর্কের মূল্য কমে না।
নিজের জিনিস ও জায়গা থাকুক
কোন খেলনা, বই বা স্মৃতির জিনিস বড় সন্তানের আর কোনটি ভাগ করা, আলোচনা করুন। বয়স বেড়েছে বলে তার জিনিস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন শিশুকে দিয়ে দেবেন না। অন্য কাজে ব্যবহারের আগে জিজ্ঞেস করুন। ঘরের প্রয়োজনের কারণে জায়গা বদলাতে হলে কারণটি সহজভাবে বোঝান। তার আপত্তি শোনার সময়ও রাখুন।
ঘর সাজাতে ছোট বাস্তব পছন্দ দিতে পারেন, যেমন প্রিয় ছবিটি কোথায় থাকবে। যে পছন্দ আসলে নেই সেটি দেবেন না। তাক এখানে না ওখানে চাই জিজ্ঞেস করলে দুটি জায়গাই সম্ভব হওয়া দরকার। কিছু সিদ্ধান্ত বড়দের, তা সরাসরি বলা যায়। সিদ্ধান্তের ভান করা প্রশ্নে শিশুকে বিভ্রান্ত করার প্রয়োজন নেই।
খুশির উত্তর চাইতেই হবে না
শুধু নতুন শিশুকে নিয়ে কেমন লাগছে নয়, তার দিন ও আগ্রহের খবর নিন। বিরক্তির কথা বললে নির্দিষ্ট সমস্যাটি শুনুন। হয়তো খেলা বন্ধ হয়েছে, অতিথির শব্দ হচ্ছে বা কোনো জিনিস সরেছে। ভাইবোনকে কত ভালোবাসে আগে বলাতে না গিয়েও সেই বাস্তব সমস্যার কথা বলা যায়।
তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া সবার কাছে ঘোষণা করবেন না। বাসায় বলা একটি কথা পারিবারিক গ্রুপের মজার গল্প হওয়ার প্রয়োজন নেই। আত্মীয়দের বলুন তার নিজের আগ্রহ নিয়েও কথা বলতে। সে “ভালো বড় ভাই” বা “ভালো বড় বোন” হচ্ছে কি না বারবার পরীক্ষা করার মতো প্রশ্ন না করাই ভালো। পরিচয়ের আরও দিক আছে।
আলাদা সময় ছোট ও রাখা যায় এমন
দিনের সঙ্গে মেলে এমন ছোট কাজ বাছুন। তার বাছা একটি বই পড়া বা স্কুলব্যাগের জিনিস একসঙ্গে দেখা হতে পারে। পরিকল্পনা বদলালে বলুন এবং আরেকটি বাস্তব সুযোগ জানান। বারবার পেছায় এমন বড় বেড়ানোর চেয়ে ছোট রাখা প্রতিশ্রুতি বেশি নির্ভরযোগ্য। সম্মতি থাকলে ভরসার অন্য বড়রাও পরিচিত কাজ করতে পারেন।
একসঙ্গে সময় কাটালে আলোচনার বিষয়ে তারও মত থাকুক। প্রতিটি কথা আবার নতুন শিশুর দিকে নিতে হবে না। আঁকা ছবি, বানানো খেলা বা তার প্রশ্ন নিয়ে কথা বলুন। পরিবারের নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে গুরুত্ব পাওয়ার প্রতিযোগিতা যেন তার আগ্রহকে করতে না হয়। মন দিয়ে শোনা নিজেই একটি আলাদা সময়।
সম্পর্ক প্রদর্শনের বিষয় নয়
নির্দিষ্ট ছবি, বক্তৃতা বা ঘনিষ্ঠতা দেখানোর কোনো বাধ্যতামূলক ধরন নেই। পরিবারের উপযোগীভাবে পরিচয় ও একসঙ্গে থাকা হোক, বড়দের দায়িত্বে। শুধু ছবি পেতে দৃশ্য সাজাবেন না। বড় সন্তানকে ছবিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ দিন, সে কত ভালো মানিয়ে নিচ্ছে তার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
এই সপ্তাহে একটি পুরোনো কাজ রাখুন, একটি জিনিস সরানোর আগে জিজ্ঞেস করুন এবং একটি সাহায্যের দাবিকে সত্যি পছন্দের প্রশ্ন করুন। পরিবারে একাধিক শিশুর নিজের গল্প আছে, তা বোঝানোর সাধারণ উপায় এগুলো। ভাইবোনের সম্পর্ক নিজের রূপ নিতে সময় পেতে পারে।


